পরিচিতি

নাম : মোঃ নজমুল হক সনি
পদবী : মেয়র
ঠিকানা : নওগাঁ পৌরসভা,নওগাঁ

পরিচিতি

নাম : মোঃ নজমুল হক সনি
পদবী : মেয়র
ঠিকানা : নওগাঁ পৌরসভা,নওগাঁ

সাবস্ক্রাইব করুন
যোগাযোগ
ইমেইল: info@naogaonpoura.com
 naogaon_pourashava@yahoo.com   ফোন: 074162355
Naogaon pourasava web portal

www.naogaonpoura.com
title



নওগাঁ পৌরসভা কার্যালয় নওগাঁ ।



নওগাঁ পৌরসভার উদ্যোগে ‘‘জাতীয় রোকেয়া দিবস’’-২০১৭ পালন।

৯ই ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে নওগাঁ পৌরসভার উদ্যোগে UGIIP-III প্রকল্পের সহযোগিতায় ১০-১২-২০১৭ ইং তারিখ রোজ রবিবারে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালীর আয়োজন করা হয়। সম্মিলিত র‌্যালির পূর্বে নওগাঁ পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলরের নেতৃত্বে একটি করে র‌্যালি পৌরসভা চত্ত্বরে আসে। ০৯ টি ওয়ার্ডের ০৯ টি র‌্যালি একসাথে মিলিত হয়ে নওগাঁ পৌরসভার মেয়র জনাব মোঃ নজমুল হক সনি এর নেতৃত্বে পৌরসভার সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর অংশগ্রহণে র‌্যালিটি পৌরসভা চত্ত্বর হতে আরম্ভ হয়। র‌্যালিটি নওগাঁ শহরের সোনারপট্টি হয়ে বাটার মোড় দিয়ে মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার হয়ে কেডির মোড় দিয়ে নওগাঁ পৌরসভা চত্বরে এসে র‌্যালিটি সমাপ্ত হয়। (‘‘র‌্যালীর ছবি সংযুক্তি ০১ , সংযুক্তি ০২ ও সংযুক্তি ০৩ এ দেখানো হলো’’।)


র‌্যালি শেষে পৌরসভা হলরম্নম কক্ষে মেয়র মহোদয়ের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন পৌরসভার মাননীয় মেয়র জনাব মোঃ নজমুল হক সনি, প্যানেল মেয়র জনাব মোঃ হাসান ইমাম তমাল, কাউন্সিলর সংরক্ষিত আসন ১,,৩ মোছাঃ নাছিমা খাতুন , কাউন্সিলর সংরক্ষিত আসন ৪,,৬ মোছাঃ অনন্যা ইয়াছমিন, কাউন্সিলর সংরক্ষিত আসন ৭,,৯ মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস, ০৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব মোঃ এ, কে, এম নজমুল হক মন্টু, ০৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ গোলাপ রহমান , ০৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ শহিদুল ইসলাম, ০১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস,এম রাশিদুল আলম সাজু, নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সচিব জনাব মোঃ আনোয়ার কবির, সহকারী প্রকৌশলী জনাব মোঃ নিজামুল হক, শহর পরিকল্পনাবিদ জনাব মোঃ আনিসুর রহমান এবং বসিত্ম উন্নয়ন কর্মকর্তা জনাব মোঃ আরিফুর রহমান ।


সভায় বক্তারা বলেন বেগম রোকেয়ার মূল বিবেচ্য ছিল শিক্ষা আজ থেকে এত বছর আগেও তিনি নারী শিক্ষুার প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। শিক্ষা কেবল নারীর নিজের উন্নয়নের জন্যই আবশ্যক নং বরং সমাজ ও পরিবারের উন্নয়নেও জরম্নরী। নারী জাগরনে সমাজের নারী-পুরম্নষ নির্বিশেষে সহযোগীতা পাবার জন্য বেগম রোকেয়া উলেস্নখ করেন যে, শিক্ষিত নারী ভালো ‘গৃহ ব্যবস্থাপক’ও হতে পারে। নারী নির্যাতন ও নারীর অধিকার আদায়ের জন্য সম্মিলিত ভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। নারীর অধিকার আদায়ের জন্য নারীদেরই অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে। নারীরা যেন চার দেওয়ালের ভিতর বন্দী না থেকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সে ধরণের পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলের এক যোগে কাজ করার আহবান জানান।


নওগাঁ পৌরসভা কার্যালয়

নওগাঁ ।


১০/১২/২০১৭ ইং তারিখে রোকেয়া দিবস পালনের প্রতিবেদন।

দিবসের নাম ঃ রোকেয়া দিবস।

তারিখ ঃ ১০.১২.২০১৭ ইং

দিবস পালনের কর্মসূচী ঃ র‌্যালি ও আলোচনা সভা ।

স্থান র‌্যালিঃ শুরম্ন হয় পৌরসভা চত্ত্বর থেকে। আলোচনা সভাঃ পৌরসভা চত্ত্বরে ।

সময় র‌্যালিঃ সকাল ১০.৩০ টা । আলোচনা সভাঃ সকাল ১১.৩০ টা।

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ঃ র‌্যালিঃ ২০০ জন।

আলোচনা সভা ঃ ২৫০ জন।

ভুমিকাঃ

৯ই ডিসেম্বর, রোকেয়া দিবস। বাংলাদেশ এ দিবসটি ব্যাপক তাৎপর্য নিয়ে পালিত হয়। মুসলিম নারী জাগরনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া তৎকালীন বৃটিশ শাসিত বাংলাদেশের রংপুর জেলার পায়রাবন্দের ছোট্ট একটি গ্রামে ১৯৮০ সালের ৯ই ডিসেম্বর এক সম্ভ্রামত্ম মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার সম্পূর্ন নাম বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তিনি রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী এবং সুশিক্ষিত প্রতাপশালী জমিদার জহিরম্নদ্দিন মোঃ আবু আলী সাবেরের দুই পুত্র ও তিন কন্যার একজন। তাঁর ভাইয়েরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইংরেজীতে শিক্ষা লাভের সুযোগ পেলেও তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী তিনি ও তাঁর বোনদের বাসায় আরবী ও উর্দু শেখানো হয় যাতে তাঁরা পবিত্র কোরআন পাঠ এবং নারী বিষয়ক লিখাসমূহ পড়তে পারেন। বর্হিবিশ্বের পরিবর্তনের ধারায় তাঁরা যাতে প্রভাবিত না হোন সে আশংকায় তাঁদের বাংলা ও ইংরেজী ভাষা শেখানো হতো না। বেগম রোকেয়ার বড় ভাই পাশ্চাত্য শিক্ষিত আবুল আসাদ ইব্রাহীম সাবের নারী শিক্ষার পক্ষপাতি ছিলেন এবং বেগম রোকেয়াকে বাসায় গোপনে বাংলা ও ইংরেজী শিক্ষা প্রদান করেন।


নারী উন্নয়নের জন্য সমাজের সুশিক্ষিত পুরম্নষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। বেগম রোকেয়ার মতে, তাঁর বড় ভাই ও স্বামীর সহায়তা না পেলে তিনি লিখতে এবং দেশের নারীদের এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারতেন না।


রোকেয়া দিবসে কি পেল নারীরা ?

প্রতি বছর ৯ই ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে রোকেয়া দিবস। কিন্তু রোকেয়া দিবস পালনের মাধ্যমে কি পেল নারীরা?। প্রতি বছরই কোটি কোটি টাকা খরচ করে মহা সমারহে সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা পালন করছে এই দিবসটি। কিন্তু পেরেছে কি নারীদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে । রোকেয়া দিবস এর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই দিবসের উত্থানের মূলে ছিল মানুষ হিসেবে এ দেশের নারীরা যেন তাদের পূর্ন সম্ভাবনার বিকাশ ঘটাতে পারে এবং পুরম্নষের উপর নির্ভরশীল না হয়ে সুন্দর জীবন যাপন ও নিজ স্বার্থ সংরক্ষনে যেন আত্ননির্ভরশীল হয়।

রোকেয়া দিবসের ইতিহাসঃ

১৮৯৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিলেত শিক্ষিত তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের (৩০ বছর) সাথে তাঁর বিয়ে হয়। লেখালেখির প্রতি বেগম রোকেয়ার অতি আগ্রহ এবং সুস্থ ও সুষম সমাজ গঠনে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি রোকেয়ার স্বামীকে মুসলিম নারীদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করে এবং এর জন্য তিনি তৎকালীন ১০,০০০ রম্নপী পৃথকভাবে রেখে দেন। উলেস্নখ্য তাঁরা সে সময় বিহারের ভগলপুরে বসবাস করতেন। ১৯০৯ সালে বেগম রোকেয়ার স্বামী মারা যায়। কিন্তু তিনি তাতে থেমে থাকেননি। ১৯০৯ সালে তার স্বামীর রেখে যাওয়া অর্থে তখনই ভগলপুরে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯১০ সালে পারিবারিক সম্পত্তি বিষয়ক জটিলতার কারনে সে স্কুল বন্ধ করে দিতে হয় এবং তিনি কলকাতায় এসে ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ ৮ জন ছাত্রী নিয়ে পুনরায় সাখাওয়াত স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয় চালু করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে ১৯১৫ সালে ছাত্রী সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৪ তে এবং পরবর্তীতে ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল এবং ভাইসরয় এর স্ত্রী কর্তৃক এ স্কুল পরিদর্শনের পর সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তি দ্বারা এ স্কুল সমাদৃত হতে থাকে। ১৯৩০ সালে এ স্কুল মাধ্যমিক স্কুলে পরিণত হয় যেখানে বাংলা ও ইংরেজী নিয়মিত পাঠ্য ছিল। তাঁর মূল বিবেচ্য ছিলো নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। বেগম রোকেয়া বিনয়ে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি নিজে ঘোমটা দিতেন, তবে তিনি বলেছেন এ যেন কিছুতেই শিক্ষার অমত্মরায় হয়ে না দাঁড়ায়। ঘোমটা থাকুক বা নাই থাকুক জরম্নরী বিষয় হলো স্বয়ং-সম্পূর্নতা অর্জন। আজ থেকে এত বছর আগেও তিনি নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন তাই রোকেয়া দিবসটি গুরম্নত্বের সাথে পালিত হয়ে আসছে।


প্রস্ত্ততিঃ

নওগাঁ পৌরসভার আয়োজনে ৯ ই ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে গত ২৬.১১.২০১৭ ইং তারিখে মেয়র মহোদয়ের কক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় । উক্ত সভার সিদ্ধামত্ম মোতাবেক নওগাঁ পৌরসভার পক্ষ থেকে ১০/১২/২০১৭ ইং তারিখে রোকেয়া দিবস পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় । সভায় র‌্যালী ও আলোচনা সভা সফল করার জন্য মেয়র স্বাক্ষরিত সকল কাউন্সিলর, পৌরসভার কর্মকর্তা/কর্মচারী ও ওয়ার্ড ভিত্তিক ১৫ জন সদস্যকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধামত্ম নেওয়া হয়। সভায় র‌্যালীতে অংশগ্রহণকারী সকলকে রোকেয়া দিবস- ২০১৭ লেখা সম্বলিত একটি করে লাল কাপড়ের ক্যাপ দেয়ার সিদ্ধামত্ম হয়। আলোচনা সভা পৌর প্রাঙ্গণে এবং র‌্যালী ওয়ার্ড ভিত্তিক ও সম্মিলিতভাবে করার সিদ্ধামত্ম নেওয়া হয়। র‌্যালী সফল করার লক্ষ্যে ২৬.১১.২০১৭ ইং তারিখে মেয়র মহোদয়ের কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয় । উক্ত সভায় সিদ্ধামত্ম হয় যে প্রথমে ওয়ার্ড ভিত্তিক ও পরে শহরে সম্মিলিতভাবে একটি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে । সম্মিলিত র‌্যালীর সম্মুখভাগে নওগাঁ পৌরসভার একটি ব্যানার থাকবে, পেছনে ফেস্টুন, মাইক, ব্যান্ড পার্টি থাকবে বলে সিদ্ধামত্ম গৃহীত হয়।


কর্মসুচীঃ

মেয়র মহোদয়ের কক্ষে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধামত্ম অনুযায়ী ১০/১২/২০১৭ ইং তারিখে সকাল ১০.০০ টার মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডের র‌্যালি সংশিস্নষ্ট ওয়ার্ড প্রদক্ষিণ করে পৌরসভা চত্ত্বরে উপস্থিত হওয়ার আহবান জানানো হয়। সকাল ১০.৩০ টায় মেয়র মহোদয়ের উদ্বোধনীর মাধ্যমে র‌্যালি শুরম্ন হয়। র‌্যালিটি নওগাঁ শহরের সোনারপট্টি হয়ে বাটার মোড় দিয়ে মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার হয়ে কেডির মোড় দিয়ে নওগাঁ পৌরসভা চত্বরে এসে সমাপ্ত হয় । এরপর নওগাঁ পৌরসভার র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা র‌্যালি সহকারে পৌরসভা চত্বরে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করে । আলোচনা সভা বেলা ১২.৩০ টার মধ্যে শেষ করে রোকেয়া দিবসের কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষনা করা হয়। (‘‘ আলোচনা সভার ছবি সংযুক্তি ০৪ ও পৌরসভার নোটিশ বোর্ডে স্থাপনকৃত ছবি সংযুক্তি ০৫ এ দেখানো হলো’’)


উদ্যাপনঃ

১০/১২/২০১৭ ইং তারিখে সকাল ৯.৩০ টা থেকে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলরের নেতৃত্বে মহিলা পুরম্নষ সদস্যের সমন্বয়ে র‌্যালী, ব্যানার, পেস্নকার্ড, ফেষ্টুন সহ সারিবদ্ধ ভাবে পৌর চত্ত্বরে হাজির হতে থাকে। সকাল ১০.০০ টায় হাজির হন মেয়র মহোদয়। মেয়র মহোদয়ের উদ্বোধনী বক্তৃতার পর সুশৃঙখলার মাধ্যমে সারিবদ্ধভাবে নারী পুরম্নষ ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একত্রিত হয়ে র‌্যালী শুরম্ন হয় । ব্যানার, ফেস্টুনসহ পিছনে মাইক মুখে নারীরাও মানুষ, নারীর প্রতি সহিংসতার অবসান করম্নন, কন্যাশিশুকে শিক্ষার সুযোগ দিন, সুস্থ মা সুস্থ শিশু সবল জাতি, নারী - পুরম্নষ সমতার পথ সুগম করম্নন, নারী শিক্ষা নিশ্চিত করম্নন, ইভটিজিং রোধেসজাগ হোন, নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী কোটা পুরন করম্নন, অগ্রগতির মূলকথা নারী -পুরম্নষ সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন মানবতার উন্নয়ন ইত্যাদি সেস্নাগান দিতে থাকে। মেয়র জনাব মোঃ নজমুল হক সনি এর নেতৃত্বে পৌরসভার সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর অংশগ্রহণে র‌্যালীটি পৌরসভা চত্ত্বর হতে আরম্ভ হয়। র‌্যালীটি শহরের সোনারপট্টি হয়ে বাটার মোড় দিয়ে মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার হয়ে কেডির মোড় দিয়ে নওগাঁ পৌরসভা চত্ত্বরে এসে সমাপ্ত হয়।


আলোচনা সভাঃ

র‌্যালী শেষে পৌরসভা হলরম্নম কক্ষে মেয়র মহোদয়ের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন পৌরসভার মাননীয় মেয়র জনাব মোঃ নজমুল হক সনি, প্যানেল মেয়র জনাব মোঃ হাসান ইমাম তমাল, কাউন্সিলর সংরক্ষিত আসন ১,,৩ মোছাঃ নাছিমা খাতুন , কাউন্সিলর সংরক্ষিত আসন ৪,,৬ মোছাঃ অনন্যা ইয়াছমিন, কাউন্সিলর সংরক্ষিত আসন ৭,,৯ মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস, ০৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব মোঃ এ, কে, এম নজমুল হক মন্টু, ০৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ গোলাপ রহমান , ০৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ শহিদুল ইসলাম, ০১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস,এম রাশিদুল আলম সাজু, নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সচিব জনাব মোঃ আনোয়ার কবির, সহকারী প্রকৌশলী জনাব মোঃ নিজামুল হক , শহর পরিকল্পনাবিদ জনাব মোঃ আনিসুর রহমান এবং বসিত্ম উন্নয়ন কর্মকর্তা জনাব মোঃ আরিফুর রহমানসহ পৌরসভার সকল সত্মরের কর্মকর্তা কর্মচারী ও পৌর এলাকার সর্বসত্মরের জনগন ।


বসিত্ম উন্নয়ন কর্মকর্তা জনাব মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন কিছুটা বাসত্মবতা পেলেও আজ এত বছর পরেও স্বপ্নের বাসত্মব রূপ দিতে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। একটি আদর্শ, সুস্থ ও সুষম সমাজ গড়তে নারী জাগরনের, নারী শিক্ষার, নারী অংশগ্রহন ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার যে উপলব্ধি আজ থেকে প্রায় শত বছর পূর্বে বেগম রোকেয়া অনুভব করেছিলেন তাঁর সে উপলব্ধি, সে স্বপ্নকে বাসত্মব রূপ দিতে নওগাঁ পৌরসভা কাজ করে যাচ্ছে।


সভায় কাউন্সিলর সংরক্ষিত আসন -,,৬ ও নারী ও শিশু বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি জনাবা মোছাঃ অনন্যা ইয়াসমিন বলেন, আজকের আলোচনা সভায় মহিলাদের উপস্থিতি দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, মহিলারা আগের চেয়ে অনেক বেশী সচেতন হয়েছে। এমন একটা সময় ছিল যখন মহিলাদের এমন আলোচনা সভা তো দুরের কথা বাড়ীর বাইরেই বের হতে দেওয়া হত না। বলা হত মেয়েরা ঘরের লক্ষী সে কেন বাইরে যাবে? কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। মেয়েরা এখন লেখাপড়া শিখছে, চাকুরী করছে, ব্যবসা করছে, এমনকি বর্তমানে পুলিশ বা সেনাবাহিনীতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। এ থেকেই বোঝা যায় মেয়েদেরকেও সঠিকভাবে গড়ে তুললে তারাও যে কোন কাজে পুরম্নষের সাথে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে সমান অবদান রাখতে পারে। তাই মেয়ে বলে অবহেলা না করে সকলের উচিত তাদের সার্বিক উন্নয়নে ব্যয় করা। তিনি আরও বলেন, একটি মানুষের দুটি হাত থাকে। এর একটি অকেজো হলে যেমন বিভিন্ন প্রকার কাজ করতে সমস্যা হয়। ঠিক তেমনি নারী ও পুরম্নষকে যদি সমাজের দুটি হাত হিসাবে ধরা হয় তাহলে একটি হাত দুর্বল বা অকেজো হলে সমাজ তথা দেশ উন্নয়নে নানা প্রকার সমস্যা দেখা যায়। মেয়েদের শিক্ষার জন্য আমাদের দেশের সরকার স্নাতক পর্যমত্ম বিনা বেতনে পড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তাই প্রত্যেক পিতামাতার উচিত এ সুযোগ গ্রহণ করে মেয়েদের


শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। তাহলে এদেশে মেয়েরা আরো মাথা উচুঁ করে দাড়াঁতে পারবে। আর মেয়েদের মাথা উচুঁ করে দাঁড় করাতে হলে অবশ্যই তাদের পিছনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে ।


নওগা পৌরসভার মেয়র ও আলোচনা সভার সভাপতি জনাব মোঃ নজমুল হক সনি তার সমাপনী ভাষণে বলেন, কাজী নজরম্নল ইসলামের ভাষায় ‘‘বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’’ । আসলেই পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে এ পর্যমত্ম যত কিছু হয়েছে তার প্রতিটিতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। পুরম্নষের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে নারী সমাজ। সভ্যতার ক্রমবিকাশে নারীর অবদান কম নয়। আধুনিক বিশ্বে তারা এখন উদ্যোক্তা, ব্যবস্থাপক ও বিনিয়োগকারী। কয়েক দশকের উন্নয়ন চিত্র বিশেস্নষন করলে দেখা যায়, এ সাফল্যের বিরাট অংশে রয়েছে নারীর অংশীদারিত্ব । শিল্প সাহিত্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন ও বিচার ব্যবস্থা, ব্যবসা, প্রশাসন , বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সমাজের সর্বসত্মরে নারী এগিয়ে আসছে পুরম্নষের পাশাপাশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারীর এ দক্ষতা আগামীদিনের বিশ্বের অর্থনীতিতে সুফল বয়ে আনবে। ইতিহাস বিশ্লেষন থেকে জানা যায়, কৃষি ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তনের মূল রূপকার। এছাড়া সমাজ উন্নয়ন, গণিত , ক্যালেন্ডার তৈরী, সময় পরিমাপ ও চিকিৎসা বিজ্ঞানসহ নানা ক্ষেত্রে তাদের অবদান কম নয়। বিজ্ঞান জগতের দিকে তাকালে মাদাম কুরী, উনিশ শতকের ম্যারিয়া মিথশ্যাল যিনি ধুমকেতু সম্পর্কে নতুন অনেক তথ্য দেন,বীজগণিত এর সমীকরনের সহজ সমাধান উদ্ভাবন করেন ম্যারিয়া এগনেসি, এছাড়া আরও অনেকে অবদান রেখেছেন। বাংলা সাহিত্যে কবি সুফিয়া কামালের অবদান কম নয়। এভাবে বিশ্লেষন করলে দেখা যায় নানা প্রতিকুলতার ভিতরেও সবখানেই আছে নারীর অবদান। তাই নারী ও কন্যাশিশুকে অবহেলা না করে তাদের উন্নয়নে ছেলেদের সমান ব্যয় করলে তারা আরও অবদান রাখতে পারবে আমাদের সমাজ,অর্থনীতি, সাহিত্য, বিজ্ঞান, এমন কি দেশগড়ার কাজে। তাই আসুন একই সুরে বলি,


নারী-পুরম্নষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা

বদলে যাবে বিশ্ব কর্মে নতুন মাত্রা।


আমার বক্তব্য দেওয়া দেখে অনেকের মনে প্রশণ আসতে পারে রোকেয়া দিবসে পুরম্নষ কেন? আসলে রোকয়া দিবস শুরম্নর পিছনের ইতিহাসে পুরম্নষের অনেক অবদান রয়েছে। বেগম রোকেয়া কঠোর পর্দা প্রথার মাঝে বেড়ে উঠেও তার পরেও বড় ভাই ও স্বামীর সহায়তায় কেবল বাংলা ও ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন তাই নয় বরং এদেশের নারীদের শিক্ষিত করার জন্য অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। তাই রোকেয়া দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর পাশাপাশি পুরম্নষদের ও সচেতন হতে হবে । সরকারী নীতিনির্ধারক থেকে শুরম্ন করে সকল পর্যায়ে পুরম্নষদের আধ্যিপত্য বিধায় তাদের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে । তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে রোকেয়া দিবস পালনের উদ্দেশ্য সফল হবে না। আসুন আমরা সবাই মিলে নারী পুরম্নষের অধিকার রক্ষায় একত্রিত হয়ে কাজ করি।

উপসংহারঃ

পরিশেষে বলা যায় আমরা নারী পুরম্নষের মধ্যে কোন ভেদাভেদ না রেখে হাতে হাত মিলিয়ে জাতি গঠনে দেশের উন্নয়নে তথা সারা বিশ্বের শামিত্ম রক্ষায় এক যোগে কাজ করা প্রয়োজন। নারীদের ভোগ্যপন্য না বানিয়ে তাদের উন্নয়নমূলক কাজে লাগালে সকলেই উপকৃত হবে। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীরা, বৈষম্যের স্বীকার হয়ে আসছে। এর অবসানে বেগম রোকেয়ার নানা রকমের প্রচেষ্টার প্রেক্ষিতে এ অবস্থার অনেক উন্নতি ঘটলেও অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে নারী-পুরম্নষ অসমতা এখনও ব্যপকভাবে বিরাজমান। এ অসমতা দূর করে আমাদের সরকার ‘এমন সমাজ দেখতে চায় যেখানে নারী-পুরম্নষের সমান সুযোগ থাকবে এবং সমতার ভিত্তিতে সকল মৌলিক অধিকার ভোগ করবে’। আলো ছাড়া যেমন অন্ধকার দূর করা যায় না তেমনি নারীদের অংশগ্রহন ছাড়া সুষম উন্নয়ন ও শামিত্ম শৃংখলা রক্ষা করা সম্ভব নয়।

স্ব/

(মোঃ নজমুল হক সনি)

মেয়র

নওগাঁ পৌরসভা, নওগাঁ ।













- 6 -

নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করুন ।। নিয়মিত পানির বিল পরিশোধ করুন।। আপনার শিশুকে স্কুলে পাঠান।।ট্রাফিক আইন মেনে চলুন||শহর পরিস্কার পরিছছন্ন রাখতে সহযোগিতা করুন।। ড্রেনে আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকুন।। আবর্জনা ডাষ্টবিনে ফেলুন।। পানির বিল নিয়মিত পরিশোধ করুন।। পানির অপচয় রোধ করুন।। আপনার শিশূকে সঠিক সময়ে টিকা দিন।।জন্ম -মৃত্যু পৌর রেজিষ্টারে (অন-লাইনে লিপিবদ্ধ করে সনদ গ্রহন করুন।।গাছ লাগার পরিবেশ বাচান।।অবকাঠামো নির্মানের পূর্বে পৌরসভার অনুমতি নিন।।যে কোন নির্মান কাজের পূর্বে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত মহা পরিকল্পনা (মাষ্টার প্লান)অনুসারে করুন।।যে কোন তথ্য জন্য পৌর ডিজিটাল সেন্টারে যোগাযোগ করুন।। তামাককে না বলুন।